মুদির দোকান থেকে পেট্রল পাম্প, ‘অনলাইন পেমেন্ট চলবে না’, ‘ফি’ কার্যকর হওয়ার আগেই ঝুলল নোটিস

ইউপিআই লেনদেনে এখনও চালু হয়নি অতিরিক্ত ‘ফি’। কিন্তু এখন থেকেই অনলাইন পেমেন্ট না নিতে চেয়ে পোস্টার দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা! কোথাও বলা হচ্ছে, অনলাইন পেমেন্ট করলে বেশি টাকা দিতে হবে। কেউ বা....

ইউপিআই লেনদেনে এখনও চালু হয়নি অতিরিক্ত ‘ফি’। কিন্তু এখন থেকেই অনলাইন পেমেন্ট না নিতে চেয়ে পোস্টার দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা! কোথাও বলা হচ্ছে, অনলাইন পেমেন্ট করলে বেশি টাকা দিতে হবে। কেউ বা অনলাইন পেমেন্ট নিতেই রাজি নন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, ক্যাশেই মেটাতে হবে বিল। উল্লেখ্য, ২০০০ টাকার বেশি লেনদেন হলে তবেই কার্যকর হবে এমডিআর (UPI MDR Charge)। কিন্তু যেসব দোকানে সাধারণত এত টাকার লেনদেন হয় না, তাঁরাও অনলাইন পেমেন্ট নিতে চাইছেন না। পেট্রল পাম্পগুলিতেও একই অবস্থা।

অক্ষয় কুমার গুপ্তা নামে গাজিয়াবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলছেন, “আমার দোকানে তো ২ হাজারের কমে কোনও লেনদেন হয় না। তাই বলছি ক্রেতাদের উচিত ক্যাশেই দাম মেটানো। কারণ অনলাইনে লেনদেন হলে তাঁদেরই বাড়তি খরচ দিতে হবে। আমরা কেন বাড়তি ফি দেব?” শেহনাজ নামে এক এক বিউটি পার্লার মালকিনেরও একই কথা। তাঁর মতে, “ব্যবসায় এমনিতেই প্রচুর সমস্যা, লাভ কম। তার মধ্যে অতিরিক্ত ফি দেব কেন? ক্রেতাদেরই বুঝতে হবে অনলাইনে পেমেন্ট করবেন কিনা।” মধ্যপ্রদেশের একাধিক পেট্রল পাম্পেও একই নোটিস দেখা গিয়েছে।

মুদিখানা দোকানে সাধারণত ২০০০ টাকার মতো বড় অঙ্কের লেনদেন হয় না। কিন্তু সঞ্জয় বিন্দাল নামে এক মুদিখানা দোকানের মালিক বলছেন, “দু’হাজারের বেশি লেনদেন একেবারে অস্বাভাবিক একথা বলা যায় না। তাই যারা এমন বেশি টাকার জিনিস কিনবেন তাঁদের ক্যাশ দিতেই হবে।” উলেখ্য, ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়তে ক্যাশলেস ইকোনমিতে জোর দিয়েছিল মোদি সরকার। গত ৬ বছর এমডিআর না থাকার দরুণ আমজনতার মধ্যে অনলাইন লেনদেন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নতুন নিয়মাবলি প্রকাশ্যে আসার পর কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছিল, ব্যবসায়ীরা এই অতিরিক্ত ফি আদায় করার জন্য আমজনতার উপরেই চাপ দেবে। গাজিয়াবাদের ঘটনায় সেটাই প্রমাণিত হল।

বিরোধীদের এই অভিযোগ যেন সত্যি না হয়, সেটা রুখতে চাইছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, এমডিআর আদায়ের জন্য় আমজনতাকে যেন বাড়তি অর্থ দিতে চাপ না দেয় ব্যবসায়ীরা, সেটা নিশ্চিত করতে নজরদারি চালাতে চাইছে কেন্দ্র। ব্যাঙ্কগুলিকে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে প্রত্যেকদিন নজর রাখতে হবে যেন ইউপিআই লেনদেনের জন্য আমজনতাকে ভুগতে না হয়। কিন্তু তাতে তৃণমূল স্তরে লাভ হবে কি?