১৯ বছরের পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। শুক্রবার রাতে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। শনিবারই তাঁকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানান, তাঁদের প্রার্থী লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বেন না।২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল মিলনের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট চারটি খুনের অভিযোগ ছিল। তার মধ্যে দু’টিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই শুক্রবার তাঁকে ধরেছে পুলিশ। এ ছাড়া, মিলনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনেও মামলা রয়েছে।
বিধানসভার উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস টিকিট দিয়েছিল মিলনকে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। দু’টি কেন্দ্রে জেতার পর নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন করাতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ। ভোটের ফল জানা যাবে ৯ অক্টোবর। তার আগে পূর্ব মেদিনীপুরের এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। মিলনের গ্রেফতারি উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
ভোটে হারার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। কালীঘাট শিবিরের পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী দিয়েছিল। দুই শিবিরের সংঘাতের মধ্যে জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ়’ করে দেয় কমিশন। ফলে নতুন নাম এবং নতুন প্রতীকে লড়তে হচ্ছে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীকে। মমতা তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক নিশ্চিত হয় শুক্রবার। তার পরেই তাঁদের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। অর্থাৎ, তিনি ভোটে লড়বেন না। নতুন করে প্রার্থী দেওয়ার সময়ও আর নেই কালীঘাটের হাতে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি এবং কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা জানিয়েছিলেন, তিনি নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। তার ঠিক পরেই মিলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কালীঘাট তৃণমূল এবং কংগ্রেসের তরফে মিলনের গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন মমতা। মিলন নিজে চণ্ডীপুর থানার সামনে পুলিশের গাড়ি থেকে জানান, বিজেপি ভয় পেয়ে গিয়েছে। তাই তড়িঘড়ি এই গ্রেফতারি। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা ভয় পেয়ে গিয়েছে তো। ভয় পেয়ে এটা করল। নন্দীগ্রাম যে বঞ্চিত, নন্দীগ্রাম যে লাশের উপর দাঁড়িয়ে, নন্দীগ্রামের মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। এখনও ১০ জন নিখোঁজ।’’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘‘২০০৭ সালের মামলা। এত দিন তিনি রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, কারও কিছু মনে হয়নি। যেই কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন, তখনই তাঁকে গ্রেফতার করা হল। বিজেপি ভয় পেয়েছে। এই নির্বাচনে হারজিতের উপর তো কিছু নির্ভর করছে না। তা হলে এত গুরুত্ব কেন দেওয়া হচ্ছে? নির্বাচন আসলে এখানে প্রহসনে পরিণত হচ্ছে।’’ খুনের মামলায় অভিযুক্তকে কেন প্রার্থী করল কংগ্রেস? শুভঙ্করের জবাব, ‘‘এগুলো সাজানো মামলা। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর বাবার বিরুদ্ধেও তো অনেক অভিযোগ আছে। তারও তো তা হলে বিচার দরকার। নন্দীগ্রামের মানুষ জানে এগুলো সাজানো ঘটনা।’’