ভারতের পণ্যে এখন কত শুল্ক আছে আমেরিকার? ট্রাম্প বিলে সই করার পর এ বার কী হতে পারে? নয়াদিল্লির অবস্থান কী

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে এ বার ভারতের উপর চাইলে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে আমেরিকা। শুক্রবার সেই বিলেই সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর স্বাক্ষরের....

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে এ বার ভারতের উপর চাইলে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে আমেরিকা। শুক্রবার সেই বিলেই সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর স্বাক্ষরের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ভারত ছাড়াও সমস্যায় পড়তে পারে চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, আজ়ারবাইজান, কাজ়াখস্তান, কিরগিস্তানের মতো দেশ।‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিল এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয়েছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ করা আমেরিকার এই আইনের উদ্দেশ্য। এই আইনে রাশিয়ার উপরেও চড়া শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। বলা হয়েছে, আমেরিকায় কিছু রফতানি করতে হলে সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে মস্কোকে। তা ছাড়া, এই আইনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তাঁর সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের উপর বিধিনিষেধের কথাও বলা হয়েছে। রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করে দিয়ে আমেরিকা এই আইনের মাধ্যমে ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে তৎপর।

বর্তমানে ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশের কাছাকাছি। ট্রাম্প বিলে সই করেছেন মানে এই নয় যে, এখন থেকে ভারতের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। এই আইন আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করছে। তিনি চাইলে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। আইনটি প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট শর্তে রাশিয়া ছাড়া অন্য দেশগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর যদি ট্রাম্প আরও কোনও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা বর্তমানের ১২ শতাংশের উপর অতিরিক্ত হিসাবে আসবে। অর্থাৎ, ট্রাম্প চাইলে ভারতের পণ্যে সর্বোচ্চ মার্কিন শুল্ক দাঁড়াতে পারে ১১২ শতাংশের কাছাকাছি।

ভারতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প পদক্ষেপ করলে দুই দেশের সম্পর্কে তার প্রভাব অবশ্যম্ভাবী, এমনটাই মনে করেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এর আগে এক বার রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ট্রাম্প একধাক্কায় ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন। ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যিক সম্পর্ককে দায়ী করেছিলেন তিনি। দাবি, ভারত তেল কেনার কারণেই রাশিয়া অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী হচ্ছে এবং ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে। পরে ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে ওয়াশিংটন। কিন্তু ভবিষ্যতে ফের তারা একই যুক্তিতে নতুন আইন প্রয়োগ করতে পারে।

নয়াদিল্লি ইতিমধ্যে আমেরিকার বিলটি (যা বর্তমানে আইন) নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সরকার তাদের নীতি নির্ধারণ করবে। কোনও বহিরাগত চাপের মুখে মাথা নত করা হবে না। ট্রাম্প বিলে সই করে দেওয়ার পর দিল্লি কী অবস্থান নেয়, কোনও বিবৃতি দেয় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। কিছু দিন আগে ব্রিক্‌স সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করে গিয়েছেন তিনি।