মরসুম বদলের আগেই জ্বরের প্রকোপ ঘরে ঘরে। দোসর পেটের রোগ ও গলাব্যথা। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের চেয়ে এ জ্বরের চরিত্র অনেকটাই আলাদা। জ্বর হচ্ছে তবে তা সহজে সারছে না। থেকে যাচ্ছে টানা ৭ থেকে ১৫ দিন। গা ম্যাজম্যাজে ভাব, নাক দিয়ে জল পড়া, গলায় তীব্র ব্যথা, সঙ্গে শুকনো কাশি— প্রায় প্রত্যেকেরই একই রকম লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গেই পেটের সমস্যা ভোগাচ্ছে অনেককে। কারও ঘন ঘন ডায়ারিয়া হচ্ছে, আবার কেউ বদহজম, পেটে যন্ত্রণায় ভুগছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, অ্যাডিনোভাইরাস, রোটাভাইরাস, নোরোভাইরাসের সংক্রমণ একসঙ্গে হচ্ছে, সঙ্গে আবার ইনফ্লুয়েঞ্জার নানা প্রজাতিও রয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে কেবল ওষুধে ভরসা করলে চলবে না। শরীরকে ভিতর থেকে শক্তপোক্ত করতে জোর দিতে হবে পথ্যেও।
জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথায় কী কী খাবেন
তুলসীর রস, আদা-মধু
আদা ও তুলসী পাতায় অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে যা নাক-গলার সংক্রমণ দূর করতে পারে। চিকিৎসক রণবীর ভৌমিক জানাচ্ছেন, ৫-৬টি তুলসী পাতা ও ১ ইঞ্জির মতো আদা থেঁতো করে রস ছেঁকে নিন। ১ চামচ মধুর সঙ্গে এই রস মিশিয়ে রোজ সকালে খেলে গলাব্যথা, কাশিতে আরাম পাবেন। ছোটদের জন্য ২-৩টি তুলসীপাতার রসের সঙ্গে আধ চামচ মধু মেশান। ১ বছরের নীচে শিশুদের মধু খাওয়ানো যাবে না।
আদা-লবঙ্গ-লেবুর লিকার চা
লবঙ্গ ও আদা গলার ফ্যারিংক্স ও শ্বাসনালির প্রদাহ দূর করতে পারে। ২ কাপ জলে ১ টুকরো আদা ও ২টি লবঙ্গ দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নিন। কাপে ছেঁকে সামান্য মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে ঈষদুষ্ণ পান করুন।
রোগপ্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধিতে
টক দইয়ের লাচ্ছি
১ কাপ টক দইয়ের সঙ্গে আধ কাপ জল, সামান্য বিটনুন ও জিরেগুঁড়ো একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হবে পুষ্টিকর লাচ্ছি। উপরে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে খেতে পারেন।
মুসুর ডালের হালকা স্যুপ
মুসুর ডাল ভাল করে ধুয়ে নিয়ে একটি পাত্রে ভিজিয়ে রাখুন। পছন্দ মতো সব্জি ছোট ছোট করে কেটে নিন। এ বার প্রেশার কুকারে সামান্য ঘি দিয়ে তার মধ্যে পেঁয়াজ, আদা, টম্যাটো, কেটে রাখা সব্জি এবং ভেজানো ডাল একসঙ্গে সেদ্ধ করতে দিন। সঙ্গে নুন এবং গোলমরিচ দিতে ভুলবেন না। প্রেশার কুকারে দুটো সিটি উঠলেই নামিয়ে ফেলুন।
ঘরে তৈরি ডিটক্স
২ থেকে ৩ কাপ জল নিতে হবে। এ বার কাচের জারে জল নিয়ে তাতে এক কাপ আনারসের টুকরো, ৫-৬টি পুদিনা পাতা ভিজিয়ে রাখুন ঘণ্টা দুয়েক। তার পর সেই জল খেতে হবে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে।
ঘরে তৈরি প্রোটিন শেক
১ কাপ ভ্যানিলা প্রোটিন পাউডার, অর্ধেকটা কলা, ১ চা চামচ পিনাট বাটারের সঙ্গে ১ কাপ জল মিশিয়ে নিন। মিক্সারে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে লো-ক্যালোরি প্রোটিন শেক। লিভারের সমস্যা থাকলে এই প্রোটিন শেক ভাল কাজ করবে।
পেটের রোগ ভোগালে
জিরে-ধনের ডিটক্স
এটি শরীর থেকে টক্সিন বার করে দেয়, হজমশক্তিও বৃদ্ধি করে। ১ গ্লাস জলে আধ চামচ গোটা জিরে ও আধ চামচ ধনে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে জলটি ফুটিয়ে ছেঁকে ঈষদুষ্ণ অবস্থায় পান করুন।
ওট্স-সব্জির খিচুড়ি
আধ কাপ ওট্স শুকনো খোলায় ভেজে নিন। আধ কাপের মতোই মুগ ডাল একই ভাবে ভেজে নিন। প্রথমে কড়াইতে সামান্য ঘি বা তেল দিয়ে আদা ও জিরে ফোড়ন দিন। এ বার ছোট টুকরো করে কাটা পেঁপে, গাজর, বিন দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে ভেজে রাখা ডাল ও ওট্স দিয়ে দিন। পরিমাণ মতো জল ও নুন দিয়ে প্রেসার কুকারে ২-৩টি সিটি দিন। নামানোর আগে সামান্য ধনেপাতা কুচি দিলে সুন্দর গন্ধ হবে যা রুচি ফেরাবে।
কী কী খাবেন না?
ভাজাভুজি, জাঙ্ক খাবার, প্যাকেটজাত খাবার যে কোনও খাবার।
চিনি দেওয়া ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, ঘন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার কম খেতে হবে।
ইনস্ট্যান্ট নুড্লস, কেক-পেস্ট্রি, চিপ্স, কিনে আনা পিৎজ়া বা সসেজ, সালামি এড়িয়ে চলাই ভাল।
ফ্রিজে রেখে দেওয়া পাউরুটি, বাসি খাবার ভুলেও খাবেন না।
রাস্তায় বিক্রি হওয়া লস্যি, শরবত খাবেন না।
কেটে রাখা ফল বা কাঁচা সব্জি দিয়ে স্যালাড খাবেন না।