নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, সরকারি ভাবে তার কারণ জানাল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ১৯ বছর ধরে ফেরার ছিলেন মিলন। ২০০৭ সাল থেকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়িয়েছেন, মিলনকে গ্রেফতারের পরে বিবৃতি দিয়ে এমনটাই দাবি করল পুলিশ। শুক্রবার চণ্ডীপুর থানা এলাকা থেকে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা চারটি জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। তার মধ্যে অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা হয়েছে। শনিবার মিলনকে হলদিয়া আদালতে হাজির করানো হয়েছে। আদালত চত্বরে হাজির হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানান, তাঁদের লড়াই চলবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার বিকেলে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করেন। তার পরেই মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, ধৃতের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, অনধিকার প্রবেশ এবং অস্ত্র ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগের মামলা রয়েছে। সবক’টি মামলাই হয়েছিল ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি এফআইআর রুজু হয়েছে নন্দীগ্রাম থানায়। একটি মামলা হয় খেজুরি থানায়। পুলিশের দাবি, সেই থেকে ‘ফেরার’ মিলন। আইনি প্রক্রিয়া থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই পুলিশ দীর্ঘ দিন আগে জারি হওয়া জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেছে। গ্রেফতার করেছে মিলনকে।
হলদিয়া আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর বলেন, ‘‘পুলিশকে কাজে লাগিয়ে আমাদের প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হলেও আমরা ময়দান ছেড়ে যাব না। আমাদের আন্দোলন জারি থাকবে রাজনৈতিক ও আইনি ভাবে।’’ রাহুল গাঁধীও শুক্রবার মিলনের গ্রেফতারির নিন্দা করেন। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ চরিতার্থ করতেই তাঁদের প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই পোস্ট ট্যাগ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স অ্যাকাউন্টে লেখেন, রাহুলকে রাজ্য কংগ্রেস মিলনের বিষয়ে সবটা জানাননি। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সেই নিয়ে তাঁরাই অভিযোগ করায় গ্রেফতার করা হয়েছে মিলনকে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। দু’টি কেন্দ্রে জেতার পর নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন করাতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ। ভোটের ফল জানা যাবে ৯ অক্টোবর। তার আগে পূর্ব মেদিনীপুরের এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে।
প্রতীক নিয়ে মমতা এবং ঋতব্রত শিবিরের টানাপড়েনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসে। শুক্রবার সঞ্চিতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এর পর নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা। তিনি দাবি করেন, আচমকা নয়, কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন আগেই। তবে তাদের সে সব জানাননি। সেই ঘোষণার পরেই গ্রেফতার হয়ে যান কংগ্রেসের প্রার্থী।