বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে ফুটবল খেলা চলাকালীন মাঠে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক জনের। আহত ২২ জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ঝাড়গ্রামের লালগড় থানার কুমারবাঁধের ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় খেলা চলাকালীন হঠাৎই বজ্রপাত-সহ বৃষ্টি শুরু হয়। খেলা থামিয়ে একটি গাছের তলায় ত্রিপল ঘেরার নীচে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফুটবল খেলোয়াড়-সহ দর্শকেরা। হঠাৎ করেই বাজ পড়ে ওই ত্রিপলের উপর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় লালগড় থানার পুলিশ। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে লালগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকেরা এক জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চার জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁদের দ্রুত মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বজ্রপাতে আহত বাকি ১৭ জনকেও মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। এক জনের চিকিৎসা চলছে লালগড় গ্রামীণ হাসপাতালে।মৃত ফুটবল খেলোয়াড়ের নাম দীপেন মুর্মু (১৯)। বাড়ি কুমারবাঁধ গ্রামে। একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল দীপেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমারবাঁধে বিশ্বকর্মাপুজো উপলক্ষে ১৬টি ফুটবল দলের দু’দিনের একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এ দিন ছিল ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম দিন। সকাল থেকে উৎসাহের সঙ্গে ফুটবল খেলায় মেতে উঠেছিল এলাকার বাসিন্দারা। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা নাগাদ খেলা চলাকালিন বজ্রপাত-সহ বৃষ্টি শুরু হলে খেলোয়াড়-সহ স্থানীয় বাসিন্দারা একটি গাছের নীচে ত্রিপল ঘেরা ছাউনির তলায় আশ্রয় নেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাগেন হাঁসদা বলেন, “হঠাৎ করেই আমাদের উপরে বাজ পড়ে। চারি দিক অন্ধকার হয়ে যায়। উঠে দেখি আমি-সহ তিনজন সুস্থ রয়েছি। বাকি ২৩ জন মাটিতে পড়ে রয়েছে। যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম সেখানে জল জমে যাওয়ায় তাঁদের সেখান থেকে টেনে খেলার মাঠে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাই।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় লালগড় থানার পুলিশ। তাঁদের উদ্ধার করে লালগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা দীপেনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চার জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক থাকায় তাঁদের দ্রুত মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বজ্রপাতে আহত ১৭ জনকে ধাপে ধাপে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। এক জনের চিকিৎসা চলছে লালগড় গ্রামীণ হাসপাতালে।
ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, “পুলিশ দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে আহতদের নিয়ে যায়। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়।” হাসপাতালে যান ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ এবং লালগড় থানার আইসি সঞ্জীব ঘোষ। লক্ষ্মীকান্ত আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্ত রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বিধায়ক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি জানার পরে মেসেজ করে সমস্ত খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং এখানে দ্রুত আসার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য আমাদের সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং তাঁদের পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি।”