মাথা, মুখ থেঁতলানো ছিল। দেহের উপরিভাগও ছিল ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতবিক্ষত। দিল্লিতে গণধর্ষণের পর খুন হওয়া কিশোরীর দেহ দেখে পুলিশের মনে হয়েছিল, দেহটি কোনও পুরুষের। ছয়টি ছুরির আঘাত দেখে পুলিশের প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছিল, যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। পরে মেডিক্যাল রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ মেলে।হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তকারী এক আধিকারিক জানান, খুলি, পাঁজর সব বেরিয়ে এসেছিল। ডান হাত কাটা ছিল। দেহ বীভৎস ভাবে ক্ষতবিক্ষত ছিল। শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছিল। বোঝা যাচ্ছিল না, দেহটি কোনও পুরুষ না মহিলার। প্রথমে মনে হচ্ছিল, দেহটি কোনও মাঝবয়সি ব্যক্তির। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের মনে হয়েছিল, যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। তার মধ্যে কুকুর এবং অন্য পশু দেহ খুবলে খেয়েছিল। যে কারণে শুরুতে দেহ শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, ১১ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ করে খুন করা হয়। দু’দিন পর কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। পরনে ছিল নীল জিন্স, বেগনি রঙের জামা, তা-ও আবার কাদায় মাখামাখি ছিল। পেটের অংশে পচন ধরেছিল। মুখ ছিল ক্ষতবিক্ষত। দেহ এমন জায়গায় ফেলা হয়েছিল যাতে পশুরা তা ছিঁড়ে খেতে পারে। তদন্তকারী ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর বাঁ হাতে তিনটি তারার ট্যাটু লক্ষ করেন। আর ওই ট্যাটুই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তা দেখে পুলিশের মনে হয়, দেহটি কোনও মহিলারও হতে পারে। পরে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া ছবিতে একই ট্যাটু দেখতে পেয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার সূত্র মেলে। পরে খোঁজ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। কিশোরীর ছবি মিলিয়ে দেখা হয়। সেখানে ছবিতেও বাঁ হাতে ওই ট্যাটু দেখা গিয়েছে বলে জানান ওই তদন্তকারী আধিকারিক।
পুলিশ সূত্রে খবর, কোনও নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়নি। ফলে এই ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। দু’দিন ধরে ৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখানে একটি টেম্পোকে দেখতে পাওয়া যায়। যেখান থেকে দেহটি উদ্ধার হয়েছিল, সেখানেই দেখা যায় টেম্পোটিকে। সেই সূত্র ধরেই খোঁজ চালাতে থাকে পুলিশ। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিসিটিভিতে টেম্পোটির বাঁ দিকে থাকা বিশেষ নকশা নজরে আসে। পরের দিন রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে একই নকশার টেম্পোর হদিস পায় পুলিশ। সেই সূত্র ধরে এক জনকে আটক করে পুলিশ। তিনি দাবি করেন, টেম্পোর চালক ওই কিশোরীকে চিনতেন। সেই সূত্রে কিশোরীর বাড়ির ঠিকানা পায় পুলিশ। পরিবার পুলিশকে জানায়, কিশোরী মাঝে মধ্যেই বন্ধুদের সঙ্গে কয়েক দিনের জন্য বাইরে থাকত। তাই এ বারও সে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়েছে বলে তারা মনে করেছিল। তাই কোনও নিখোঁজ ডায়েরিও করেনি তারা। এই ঘটনায় ১৯ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার এবং তিন নাবালককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।