অ্যাডমিট না পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার থার্ড সেমিস্টারে বসতে পারলেন না ছাত্রী, স্কুলের গেটে অবস্থান বিক্ষোভ

কেশপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর: উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় অ্যাডমিট কার্ড না পাওয়ায় পরীক্ষা দিতে না পেরে বিদ্যালয়ের গেটে অবস্থান-বিক্ষোভে বসলেন এক ছাত্রী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর....

কেশপুরে অ্যাডমিট কার্ড না পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অবস্থান-বিক্ষোভ

কেশপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর: উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় অ্যাডমিট কার্ড না পাওয়ায় পরীক্ষা দিতে না পেরে বিদ্যালয়ের গেটে অবস্থান-বিক্ষোভে বসলেন এক ছাত্রী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের কুয়াই উচ্চ বিদ্যালয়ে।

অভিযোগ, নূরতাজ খাতুন নামে ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতেন এবং অন্যান্য পড়ুয়ার মতোই পরীক্ষার ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার আগে তিনি অ্যাডমিট কার্ড হাতে পাননি। ফলে নির্ধারিত দিনে তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষায় বসতে পারেননি বলে অভিযোগ।

ছাত্রীর দাবি, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁকে অ্যাডমিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এমনকি পরীক্ষা দিতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভে বিদ্যালয়ের গেটের সামনে বসে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, অ্যাডমিট কার্ডের সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁরা এসআই অফিস, বিডিও অফিস, ডিআই অফিস-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবার।

অন্যদিকে, ছাত্রী অভিযোগ করেছেন, পরীক্ষায় বসতে না পারলে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে তাঁকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাসবিহারী মিদ্যার বক্তব্য, ওই ছাত্রী নাকি ফর্ম পূরণ করেননি। যদিও একইসঙ্গে তিনি অ্যাডমিট কার্ডের বিষয়ে কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। ফলে ফর্ম পূরণ না করলে কীভাবে বিশেষ অনুমতিতে অ্যাডমিটের ব্যবস্থা করা সম্ভব—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কেশপুর থানার পুলিশ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছয়। ছাত্রীর অভিযোগ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এখন প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির হস্তক্ষেপে কি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং ওই ছাত্রী পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন?