জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ, আছে পাহাড়-অরণ্যের হাতছানি, পুজোয় চলুন এমনই এক স্থানে

কারও চাই জঙ্গলের রোমাঞ্চ, কেউ আবার প্রকৃতির সান্নিধ্যে দুটো দিন কাটিয়ে দিতে পারলেই খুশি। কারও দাবি, বেড়াতে গেলে নদী দেখার। কেউ আবার পাহাড়প্রেমী। নানা জনের নানা মত। গন্তব্য স্থির করা....

কারও চাই জঙ্গলের রোমাঞ্চ, কেউ আবার প্রকৃতির সান্নিধ্যে দুটো দিন কাটিয়ে দিতে পারলেই খুশি। কারও দাবি, বেড়াতে গেলে নদী দেখার। কেউ আবার পাহাড়প্রেমী। নানা জনের নানা মত। গন্তব্য স্থির করা তাই মোটেই সহজ কাজ নয়। তবে খুঁজলে সেই ঠিকানা পাওয়াও কঠিন নয়।

আছে এক এমন জায়গা, যেখানে জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ। মোটেও সুন্দরবনের কথা হচ্ছে না। অরণ্যের পাশাপাশি যদি পাহাড় দেখারও শখ থাকে তবে ব্যাগপত্তর গুছিয়ে, ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন সাতকোশিয়ার উদ্দেশ্যে।

গত কয়েক বছরে মহানদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অভয়ারণ্যটি প্রকৃতিপ্রেমীদের ভ্রমণতালিকার নিজগুণেই জায়গা করে নিয়েছে। তবে এই স্থানে উপচে পড়া ভিড় হয় না কোনও দিনই। বরং অরণ্যঘেরা মহানদী পারের আস্তানাটি শান্তির ঠিকানা। ওড়িশার অঙ্গুল, নয়াগড়, কটক এবং ঢেঙ্কানাল জুড়ে সাতকোশিয়া অভয়ারণ্যের বিস্তৃতি। রয়েছে সাতকোশিয়া ব্যাঘ্র প্রকল্পও।

জনশ্রুতি ‘সাতকোশিয়া’ শব্দটি এসেছে ‘সাত ক্রোশ’ থেকে। মহানদী বয়ে গিয়েছে ওড়িশার পূর্বঘাট পর্বতমালার উপর দিয়ে। সেই পথে সাত ক্রোশ বা ২২ কিলোমিটার গিরিখাতের সৃষ্টি হয়েছে। তা থেকেই জায়গার নাম। সাতকোশিয়া ভ্রমণ করতে গেলে অঙ্গুল, ভুবনেশ্বর বা কটক হয়ে আসা যায়। অঙ্গুল দিয়ে এলে সাতকোশিয়া প্রবেশ করতে হয় পম্পাসার হয়ে। আবার ভুবনেশ্বর বা কটক হয়ে নয়াগড়ের বদমূলেও আসা যায়। এখানে স্যান্ড রিসর্টেও থাকা যায়।

মহানদী এখানে কুমিরদের নিশ্চিন্ত আশ্রয়। টিকরপাড়া থেকে নৌবিহারের বন্দোবস্ত রয়েছে। পাহাড়-নদীর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি জলপথে সাক্ষাৎ হতে পারে কুমিরদের সঙ্গে। কচ্ছপের দেখাও মিলতে পারে। শীতে এলে পরিযায়ী পাখিরাও সফরসঙ্গী হবে। ঘুরে নিন এখানকার ঘড়িয়াল সংরক্ষণ কেন্দ্রটি। নৌবিহার করা যায় বদমূলের কাছ থেকেও।

সাতকোশিয়ার অরণ্য, নদী উপভোগের জন্য ওড়িশা ইকো ট্যুরিজ়মের তরফে বিভিন্ন জায়গায় রিসর্ট এবং অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প করা রয়েছে। বাঘমুন্ডা, ছোটকেই, টিকরপাড়া, পূর্ণাকোট, তারাভায় রয়েছে ইকো কটেজ। বদমূলে রয়েছে স্যান্ড রিসর্ট। রিসর্টের পাশাপাশি শীতের দিনে মহানদীর তীরে বালিয়াড়িতে আরামদায়ক তাঁবু খাটিয়েও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে নদীর সৌন্দর্য উপভোগে টিকরপাড়া বা বদমূলে থাকাই ভাল।যদি ছোটকেই নেচার ক্যাম্প থাকেন বা সেই দিকে যান, ঘুরে নিতে পারেন নন্দিনী ঝর্না। সাতকোশিয়া থেকে সূর্যাস্তও ভারি মনোরম দেখায়। অঙ্গুল হয়ে পম্পাসার প্রবেশদ্বার দিয়ে অরণ্যে প্রবেশ করলে ঘুরে নিন স্থানীয় জগন্নাথ মন্দির এবং ডেরজং জলাধার। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী চমৎকার। জলাধারটিও বেশ বড়। নাইট সাফারিরও ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যাঘ্রপ্রকল্প হলেও, এখানে সচরাচর বাঘের দেখা মেলে না। তবে কপাল ভাল থাকলে হরিণ-সহ অন্য বুনো জন্তুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে যেতে পারে।

কোথায় থাকবেন?

বাঘমুন্ডা, ছোটকেই, টিকরপাড়া, পূর্ণাকোট, তারাভায় রয়েছে ইকো কটেজ। বদমূলে রয়েছে স্যান্ড রিসর্ট।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে অঙ্গুলের ট্রেন মাত্র একটি, একদিনই ছাড়ে। শালিমার থেকে অঙ্গুলের দু’টি ট্রেন আছে। ভুবনেশ্বর পৌঁছে রৌরকেল্লার দিকের ট্রেন ধরে অঙ্গুল পৌঁছতে পারেন। অঙ্গুল থেকে সাতকোশিয়া সবচেয়ে কাছে। চাইলে কটক এবং ভুবনেশ্বর হয়েও সড়কপথে আসা যায়। সড়কপথে যে কোনও বড় শহর থেকেই এখানে আসা যায়।