Ground Report : চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল দমদমের নাগেরবাজার সাতগাছি এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, সন্তান প্রসবের জন্য একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করার পর অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পরেই রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। রক্তের ব্যবস্থা করতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করলেও ততক্ষণে মৃত্যু হয় প্রসূতির।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তান প্রসবের জন্য ওই প্রসূতিকে নাগেরবাজারের সাতগাছি এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, প্রথমে তাঁদের জানানো হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই সন্তান প্রসব করানো হবে। কিন্তু পরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের পরিচিতদের মধ্যে একই গ্রুপের রক্ত রয়েছে এবং তাঁদের কাছ থেকে রক্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক বলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া মেলেনি । এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে ছোটাছুটি করে রক্ত সংগ্রহ করে নার্সিংহোমে নিয়ে আসেন। তবে তার আগেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
এরপরই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে নার্সিংহোমের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, আগে থেকেই রক্তের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিশ্চিত না করে কীভাবে অস্ত্রোপচার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
ঘটনার খবর পেয়ে নাগেরবাজার ও দমদম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ করা এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
তবে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। কী কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্ত ঘটনা তদন্ত করছে নাগেরবাজার থানার পুলিশ।